Unique knowledge bangla

History of dakshin dinajpur, bangla bible, DAKSHIN DINAJPUR, Uttar DINAJPUR, Malda, chiristanity, santhal,indian tribe,mahli tribe, unknown facts, tourist place of Malda, tourist place of Dakshin DINAJPUR ,bible, bible story, bible story in bangla,dakshin dinajpur news,adibashi,sautal,indian tribe culture,

TRANSLATE ARTICLE TO YOUR LANGUEGE

সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০২৩

কোলকাতা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল ঘুরে আসুন।। Visiting Kolkata Victoria Memorial hall।।

আগস্ট ০৭, ২০২৩

 ছোটোবেলা থেকেই জন্মেছিল সেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দেখার প্রত্যাশা। কোলকাতা গিয়েছি অনেকবার কিন্তু সুযোগ হয়ে উঠেনি একবারও। এবার যেহেতু সুযোগ পেয়েছি তাই ছাড়ার কোনো ইচ্ছে নেই। হেঁটে হেঁটেই স্মৃতি বিজড়িত স্থানের দিকে রওনা দিলাম।

পরপর দুই বছরের দুটি যুদ্ধ ১৮৫৭ সালে পলাশীর, এবং ১৮৫৮ সালে সিপাহী বিদ্রোহ হলে ব্রিটিশ সরকারের মনে হয় ভারতের মত এত বড় দেশকে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাষনের মধ্যে না রাখাই উচিত, বরং ব্রিটিশ সরকার নিজেই সেই শাষনভার গ্রহন করুক। এই সুবাদেই রানি ভিক্টোরিয়া ১৮৭৬ থেকে ১৯০১ পর্যন্ত ভারত শাসন করেছিলেন। এখানে একটি বিষয় জানা উচিত- অনেকেরই মনে হয় রানি ভিক্টোরিয়া, কোলকাতার এই মেমোরিয়াল থাকতেন এবং এখানে থেকেই তিনি তার শাসন চালাতেন। কিন্তু বাস্তবে রানি ভিক্টোরিয়া একবারও ভারতে আসেন নি।

Kolkata-Victoria-memorial-hall
কোলকাতা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে আমি

ভারত শাসনকালেই ইংল্যান্ডেই রানীর মৃত্যু হলে, তার পরবর্তী সময়ে  রানি ভিক্টোরিয়ার স্মরণে একটি স্মারক নির্মাণের ধারণা প্রকাশ করেন তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন। এই কাজে তিনি সেই সময়ের বিখ্যাত আর্কিটেক্ট উইলিয়াম এমারসন কে দায়িত্ব দেন এবং তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন ভিনসেট এস। তাদের একান্ত তত্ত্বাবধানে শ্বেত মার্বেল দিয়ে ১৯০৬ সালে এই মেমোরিয়ালের নির্মাণ শুরু হয় এবং সমস্ত কাজ শেষ হয় ১৯২১ সালে। আবার এই বছরেই এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
 কি কি রয়েছে এখানে
দেখার জন্য এখানে অনেক কিছু রয়েছে, বিশেষ করে স্বাধীনতা আন্দোলনের সম্পর্কিত বস্তু।
বর্তমানে মেমোরিয়ালটি একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যাতে ৫০,০০০ টিরও বেশি আইটেমের সংগ্রহ রয়েছে, যেমন চিত্রকলা, ভাস্কর্য, ছবি, হাতে লেখা গ্রহণপত্র, টাকা, টেকসটাইল এবং ভারতের ইতিহাস এবং শিল্পের সম্পর্কিত আরও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। ভারতের কয়েকজন শাষনকর্তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, বিখ্যাত লোকেদের চিত্রকলা এছাড়াও আরো বহু কিছু (সব বলছিনা, আমি চাই আপনারা এগুলো নিজে স্বচক্ষে দেখুন।)। এছাড়াও মেমোরিয়ালটিতে মন ভালো করার মত  ৬৪ একরের একটি বাগান রয়েছে।
যেতে চাইলে যেতে পারেন কোলকাতার খুব একটা দূরে না। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সকাল দশটায় খোলে এবং সারাদিন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকার পর সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করে দেয়া হয়। ভারতীয়দের প্রবেশমূল্য জনপ্রতি তিরিশ টাকা।

কিভাবে যাবেন 

আপনি উত্তরবঙ্গ থেকে কোলকাতা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দেখার জন্য বিভিন্ন উপায়ে যেতে পারেন। আমি আপনাকে কিছু সুবিধাজনক ও সস্তা উপায় বলে দিচ্ছি

রেল: আপনি উত্তরবঙ্গের যে কোনো রেলওয়ে স্টেশন থেকে কোলকাতা (শিয়ালদা, হাওড়া, কোলকাতা) এর দিকে রেলের টিকিট কাটিয়ে নিতে পারেন। এবং সেখান থেকে বাসে চেপে যেতে পারেন।

রোড: আপনি উত্তরবঙ্গের যে কোনো বাস-স্ট্যান্ড (শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা) থেকে কোলকাতা ধর্মতলা গিয়ে সেখান থেকে খুব কাছে আপনারা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পেয়ে যাবেন , ধর্মতলা থেকে চাইলে আপনি বাসে করেও মেতে পারেন।

আকাশপথে: শিলিগুড়ি বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে কোলকাতা দমদম এয়ারপোর্টে পৌঁছে আপনি বাসে ধর্মতলা গিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেতে পারেন। অথবা দমদম এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি অথবা ক্যাব ভাড়া করে সরাসরি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে আসতে পারেন।

মনে রাখবেন, ধর্মতলা থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল যেতে গেলে আপনাকে ৭ নম্বর বাসে চেপে বসতে হবে।

শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩

হিন্দুদের ভবিষ্য পুরাণে যীশুর বিষয়ে যা বলা হয়েছে।। JESUS IN HINDU MANUSCRIPT BHAVISHYA PURANA ।।

আগস্ট ০৪, ২০২৩

 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের জীবনী ও তার মতাদর্শ আজও গোটা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের আস্থা স্বরুপ, তথাপি তার বাণী খ্রীষ্টানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বহুকাল থেকেই তার জীবনির উপরে চলে এসেছে নানা বিতর্ক। কেনোনা শুধু বাইবেলে নয়, বাইবেল ছাড়াও বিভিন্ন ভারতীয় প্রাচীন পুঁথি সাহিত্যের মধ্যেও এমন এক ব্যক্তিত্বের আভাষ রয়েছে, যাকে বিভিন্ন গবেষকরা যীশু খ্রীষ্ট হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। এই কিংবদন্তি মতে যীশু খ্রীষ্ট তার হারিয়ে যাওয়া সময় অন্তরালে ভারতে এসেছিলেন। এমনকি হিন্দু ধর্মের বিশেষ গ্রন্থ "ভবিষ্য পুরাণ' এতেও রয়েছে এমন এক ব্যক্তির উল্লেখ যাকে অনেক শাস্ত্রবিদেরা যীশু খ্রীষ্ট হিসাবে মনে করেন।

এমন কি লেখা রয়েছে এই পুরাণে, যার জন্যে এত বিতর্ক? সে বিতর্কে না হয় পরে আসছি। আগে জানা প্রয়োজন "পুরাণ' কি? 

ভবিষ্য পুরাণ

 "পুরাণ' তার অর্থ পুরানো, যা অতীতের সাথে সম্পর্কিত। এযাবৎ হিন্দু ধর্মে আঠারোটি মহাপুরাণ এবং আঠারোটি উপ পুরাণ রয়েছে, যেগুলি হল-

 ব্রহ্ম পুরাণ, পদ্ম পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ,বায়ু পুরাণ, ভাগবত পুরাণ, নারদ পুরাণ, মার্কন্ডেয় পুরাণ, অগ্নি পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, লিঙ্গ পুরাণ, ভরহা পুরাণ, স্কন্দ পুরাণ, ভামনা পুরাণ, কূর্মা পুরাণ, মৎস্যা পুরাণ, গরুড় পুরাণ, ব্রহ্মান্ডা পুরাণ। এছাড়া উপ পুরাণগুলির নামগুলি হল: সনাত-কুমার, নরসিংহ, বৃহন্নারদীয়, শিব-রহস্য, দুর্বাসা, কপিল, ভামনা, ভর্গব, বরুণ, কালিকা, শম্ভা, নন্দী, সূর্য, পারাশর, বসিষ্ঠ, গণেশ, মুদ্গলা এবং হংস।

সকল পুরাণ গুলির মধ্যে ভবিষ্য পুরাণ কিছুটা ব্যতিক্রম। সকল পুরাণ গুলি বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্মীয় দেবতার কাহিনী, চিকিৎসা, ব্যাকরণ, ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু ভবিষ্য পুরাণ উপরোক্ত অল্প কিছু বিষয় খানিকটা আলোচনার পাশাপাশি আনুমানিক আন্দাজে ভবিষ্যতে কি হতে চলেছে বা ভবিষ্যতের রুপরেখা নিয়ে আলোচনা করে। এই ভবিষ্য পুরাণ ব্যাসদেব দ্বারা প্রথম শতকের শেষ দিকে রচিত বলেই অনেকে মনে করেন। তবে হিন্দু ধর্মের বৃহৎ অংশের অনুসারী আরো প্রাচীন কালে লিখিত বলেই মনে করেন।

 যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে ভবিষ্য পুরাণ

ভবিষ্যপুরাণের উনিশ অধ্যায়ের চতুরয়ূগা খন্ডে, কিংবদন্তি রাজা শালিবাহন, যিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের মতে প্রতিষ্ঠানে রাজত্ব করতেন এবং যিনি ছিলেন পরমার রাজ রাজা ভোজের পূর্বপুরুষ। এই শালিবাহন রাজার সাথে এক দিব্য পুরুষের পরিচয় এবং কথোপকোথন হয়, অনেকেই মনে করেন এই দিব্য পুরুষই হলেন প্রভু যীশু খ্রীষ্ট। যে কথোপকথনটি শুরু হয় উনিশ অধ্যায়ের চতুরয়ূগা খন্ডের তেইশ নম্বর শ্লোক থেকে।

বলা হয়েছে - 

কো ভারাম ইতিতাম প্রাহা

 সূ হবাচা মুদানভিতাহা

 ইশা পুত্রাম নাম ভিদ্দী

 কুমারীগর্ভা সম্ভাবাম

যার অর্থ - শালিবাহন রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কে মহাশয়? উত্তরে তিনি বললেন আমি ইশাপু্ত্র, ঈশ্বরের সন্তান এবং আমি কুমারী মা থেকে জন্মগ্রহন করেছি।

Jesus Christ in Bhavishya Purana Hindu religion
হিন্দু যোগি রুপে যীশু খ্রীষ্ট (কল্পনায়)

যদি আমরা খ্রীষ্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের দেখি তবে আমরা দেখবো যে, যীশু খ্রীষ্ট নিজেকে বহু জায়গায় ঈশ্বরের সন্তান বলেই দাবি করেছেন, যার কয়েকটি উদাহরণ হল যোহন লিখিত- 

১০:৩০ - আমি ও পিতা এক।

১৪:৯ - যে কেউ আমাকে দেখে সে আমার পিতাকে দেখে।

এছাড়াও আরো বহু জায়গায় এমন উল্লেখ রয়েছে। আবার একি ভাবে বাইবেলের পুরানো নিয়মের ইশাইয়া লিখিত ৭:১৪ তে কুমারী মায়ের দ্বারা পুত্র সন্তান হবার ভবিষ্যৎ করা হয়েছিল, আর যার প্রমান স্বরুপ বাইবেলের নতুন নিয়মে মথি লিখিত প্রথম অধ্যায়ের ১৮-২৫ এ যীশুর মা মরিয়মকে কুমারী মা হিসাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও লুক লিখিত প্রথম অধ্যায়ে যীশুর কুমারী মা দ্বারা প্রসবের বিবরণ পাওয়া যায়।

 আরো পরুন 👇

প্রভু যীশু খ্রীষ্ট কি ভারতে এসেছিলেন??

এছাড়াও ভবিষ্য পুরাণের ৩০ নং শ্লোকে যীশু খ্রীষ্ট তার ধর্ম প্রচার এবং যীশুকে মাশিহা কেনো বলা হয়েছে সে বিষয়ে বলেছেন - "হে পৃথিবী গ্রহের রক্ষক, পরম ভগবানের চিরন্তন পবিত্র ও শুভ রূপ আমার হৃদয়ে স্থাপন করে, আমি ম্লেচ্ছদের নিজস্ব বিশ্বাসের মাধ্যমে এই নীতিগুলি প্রচার করেছি এবং এইভাবে আমার নাম 'ইশা-মাসিহা' হয়েছে।"

 খ্রীষ্টানদের মধ্যে ভবিষ্য পুরাণের গ্রহনযোগ্যতা

এই প্রশ্নের এক কথার উত্তর খ্রীষ্টানদের মধ্যে পুরাণের এই শ্লোকগুলির গ্রহনযোগ্যতা একটুও নেই। যার পিছনে অনেক কারন রয়েছে , ক্যাথলিক, প্রোটেষ্টান সহ অন্য খ্রীষ্ট সম্প্রদায়ের বিশ্বাসীরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন পুরাণের উল্লেখিত ব্যাক্তি এবং তাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্ট একই ব্যাক্তি নন। কেনোনা বাইবেল হিসাবে সকল খ্রীষ্টানরা মনে‌ করেন যীশু খ্রীষ্ট মৃত্যু থেকে জীবিত হবার পর স্বর্গে উত্থিত হয়েছেন, এবং পুরাণের এই শ্লোকগুলি তার সমর্থন করে না।

দ্বিতীয়তঃ যে শালিবাহন রাজার সাথে এই কথোপকথন হয়েছে , ঐতিহাসিক মতে তার অস্তিত্ব ছিল আনুমানিক ৪৮-৫৮ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন , এবং এটি যদি সত্যি ধরে নেওয়া হয় তবে এটা ধরে নিতে হবে যে সেই মূহুর্তে রাজা কোনো পুরুষের সাথে নয় বরং তিনি কোনো এক বৃদ্ধের সাথে কথোপকথন করেছিলেন, কিন্তু শ্লোকে পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে ২২ নং শ্লোকে - "হুনা দেশের মাঝখানে (হুনাদেশ - মনসা সরোবরের নিকটবর্তী এলাকা বা পশ্চিম তিব্বতের কৈলাস পর্বত) শক্তিশালী রাজা একজন শুভ পুরুষকে দেখতে পেলেন যিনি একটি পাহাড়ে বাস করছেন। লোকটির গায়ের রং ছিল সোনালী এবং তার পোশাক ছিল সাদা।‌‌" যা পরস্পর বিরোধী মতবাদ তৈরি করে। 

তৃতীয়তঃ যতগুলো পুরাণ রয়েছে, সেগুলো প্রায়শই একে অপরকে সমর্থন করে, এবং প্রতিটি পুরাণেই প্রতিফলিত হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে যীশুর বিষয়ে শুধুমাত্র একটি পুরাণেই বলা হয়েছে অন্যগুলিতে নয়।

চতুর্থতঃ এছাড়াও বর্তমানে আমরা যে পুরাণটি লক্ষ্যে করি তা কিছুটা বিকৃত অবস্থায় রয়েছে, এটি জানা যায় যে এই পাঠ্যের প্রায় ২০০ টি পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে বা ভুল স্থান পেয়েছে।

পঞ্চমতঃ ইসা নামটি তৎকালীন সময়ে বহুল প্রচলিত নাম হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অনেকে মনে করেন। সুতরাং খ্রীষ্ট ধর্মের ইসা এবং পুরাণে বর্ণিত ইসা মে একই ব্যাক্তি তা সম্পূর্ণরূপে গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে পারে না।

ভারত ব্রিটিশ অধীনে থাকাকালীন যখন ভারতে ছাপাখানার ব্যবহার শুরু হয়, তখন ব্রিটিশ সাহায্য প্রাপ্ত খ্রীষ্টান মিশনারীরা ভারতে খ্রীষ্ট ধর্ম প্রচারের নানা ফন্দী আঁটতে থাকে। তাই অষ্টাদশ শতকের দিকে খ্রীষ্টান মিশনারীরা হিন্দুদের খ্রীষ্ট ধর্মের প্রতি আস্থা বাড়াতে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের (ভবিষ্য পুরাণ) অনুবাদ করে ছাপার সময় চতুরতার সাথে এই শ্লোকগুলি যুক্ত করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

সুতরাং পুরাণ বর্ণিত সেই পুরুষ যে যীশু খ্রীষ্টই ছিলেন সেই বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয়, যার ফলস্বরূপ খ্রীষ্টানরা পুরাণের এই শ্লোকগুলিকে মান্যতা দেয় না। 

(বিঃদ্রঃ - ভবিষ্য পুরাণের যীশুর সাথে শালিবাহনের কথোপকথনের সম্পূর্ণ শ্লোকগুলির বাংলা মানে পরের লেখায় তুলে ধরবো।)

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

সাপ কামড়ালে বেঁজীর বিষ লাগেনা ।। WHY MONGOOSE SERVIVE FROM SNAKE BITE ।।

জুলাই ২৮, ২০২৩

 

"দাঁ কুড়াল সম্পর্ক' "সাপ বেঁজীর সম্পর্ক ' এই দুটি একই প্রবাদ বহন করে। প্রচন্ড শক্তিশালী দুটি বিরোধী একে অপরকে শেষ করতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মঞ্চে উপস্থিত হয় একে অপরের সামনে এলেই। এক সময় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মোড়গ লড়াই, সাপ বেঁজীর লড়াই মানুষের কাছে বিনোদনের খোরাক যোগাত। একদিকে বিষধর সাপ অপরদিকে ক্ষীপ্র স্বভাবের নেউলে, যুদ্ধ চলে কোনো এক প্রতিদ্বন্দ্বির মৃত্যু পর্যন্ত।
বর্তমানে খুব অল্প কিছু প্রান্তে মোড়গ লড়াইয়ের অস্তিত্ব থাকলেও বাঁধ সেধেছে সাপ বেঁজীর লড়াইয়ে। ওয়াল্ড লাইফ প্রটেকশন এক্ট ১৯৭২ দ্বারা যা বন্ধ হয়ে পরে।
লড়াইগুলোতে সাপের দংশনে নেউলের কোনো প্রকার ক্ষতি হয়না। জনশ্রুতি আছে যে নেউলে বা বেঁজী বিষ প্রতিরোধের গোপন ভেষজের জানকারী রাখে। কিন্তু এটি একপ্রকার জনশ্রুতি, বাস্তবতা নয়। তাহলে বাস্তবতা কি, সাপ কামড়ালে বেজীর কেনো বিষ লাগেনা?
সাপের বিষে কি রয়েছে?
সাপের বিষে যেগুলি রয়েছে তার বেশিরভাগ রয়েছে প্রোটিনের যৌগ, কিছু ইনজাইম , এছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ, যেমন - জিংক সালফাইড, ক্যাটালেজ ইত্যাদি মিশ্রিত হয়ে জটিল রাসায়নিক যৌগ বিভিন্ন প্রকারের টক্সিক তৈরি করে।

সাপ বেঁজীI
এই সমস্ত টক্সিক সাপের প্রকারভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারে, যা সাপের দংশনে ফ্যাং দ্বারা শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে এবং রক্তের সাথে বিক্রিয়া করে।  এছাড়াও সাপের লালাতেও জুটক্সিন থাকে যা শিকারকে অবসন্ন এবং হজম করতে সাহায্য করে। সাপের বিষ সরাসরি মাংসের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে না। কিন্তু কোনো প্রকারে রক্তের সংস্পর্শে আসলেই খেল খতম।

বেঁজীর কেনো বিষ লাগেনা
শুধু বেঁজী নয়, ঘোড়ারও বিষ লাগেনা, তার কয়েকটি কারন আছে।
প্রথমতঃ বেঁজীর শরীর অতিরিক্ত লোমশ‌ প্রকৃতির হবার ফলে, সাপের পক্ষে দংশন করে বিষ দাঁত দ্বারা বিষ বেঁজীর শরীরের ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভবপর হয় না।
দ্বিতীয়তঃ বেঁজী এবং সাপ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বির রূপে দেখে থাকে, সুতরাং এই দুটি প্রজাতি সামনাসামনি এলে লড়াই অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে, যেখানে নেউলে শিকারীর ভূমিকাই, এবং সাপ শিকারের ভূমিকাই থাকে, ফলে বেঁজীর ক্ষিপ্রতার সামনে সাপের দংশনের সাফল্য খুব নগণ্য হয়ে পরে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৩

মুন্ডা আদিবাসী জনসমাজ কেমন রয়েছেন।। MUNDA TRIBE COMMUNITY ।।

জুলাই ১৩, ২০২৩


ইতিহাসের পাতায় বিরসা মুন্ডার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, এমন এক বীর যোদ্ধা যেকিনা খ্রীষ্ট ধর্ম নিয়েছিল শিক্ষা পাওয়ার জন্যে, কিন্তু তার মনের বৈপ্লবিক চিন্তাধারা দমিয়ে রাখতে পারেনি ইংরেজরা, আদিবাসী জনসমাজের জন্য এগিয়ে আসেন। যার নামে ভারতের বুকে মুন্ডা আদিবাসীরা বিশেষ পরিচয় পেয়েছে। কারা এই মুন্ডা? কেমন এদের ভাষা, রীতিনীতি? কেমনই বা এদের আচার আচরণ, তা‌ ইতিহাসের পাতায় তেমন ঠাঁই পাইনি।
সমস্যা নেই, সেই দিকগুলো আজ তুলে ধরবো একদম সাধারণ ভাষায়।

মুন্ডা সম্প্রদায়েরা যুবকেরা

 জাতি পরিচয়

বর্তমানে বাংলাদেশ সহ ভারতের ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে এদের দেখা গেলেও, এদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ঝাড়খন্ডে বেশি দেখা যায়। মুন্ডা দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় উপজাতি এবং জাতিতাত্ত্বিক দিক থেকে দ্রাবিড় উপজাতি হিসাবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন আদিবাসী সহবস্থানের কারনে কিছু কিছু অঞ্চলে দ্রাবিড় উপজাতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মী প্রোটো অষ্ট্রলয়েড মনে হয়। আবার এই সহবস্থানের কারনে মুন্ডাদের কিছু কিছু অঞ্চলে কোল নামে পরিচিত।

 ভাষা পরিচয়

মুন্ডারা যে ভাষায় কথা বলে, তার নাম মুন্ডারি বা মান্দারি। এটি অস্ট্রো- এশিয়াটিক ভাষা গোষ্ঠীর পাশাপাশি খেড়োয়াড়ী ভাষার অন্তর্গত। বিভিন্ন আদিবাসী ভাষা খেড়োয়াড়ী ভাষার মধ্যেই পরে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে মুন্ডাদের ভাষা অন্য খেড়োয়াড়ী ভাষার সাথে মিশ্রিত হয়ে পড়ায়, স্থানভেদে মুন্ডাদের ভাষার তারতম্য দেখা যায়। যেহেতু এটি খেড়োয়াড়ী ভাষার অন্তর্গত,তাই‌ এই ভাষাটিও রোমান, দেবনাগরী বাংলা এবং উড়িয়ান লিপিতে লেখা হয়ে থাকে।

 জীবিকা
বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, মুন্ডা সম্প্রদায়েরা কৃষি ভিত্তিক সমাজের অংশ। আবার কারো কারো মতে মুন্ডাদের আদি জীবিকা পশু শিকার ছিল, যা কালক্রমে চাষবাসে পরিবর্তন হয়েছে। তবে বর্তমানে এরা চাষবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মে নিজেকে নিযুক্ত করেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুন্ডাদের একটি বিশাল অংশ চা বাগানের সাথে যুক্ত, এবং এই চা বলয়যুক্ত অঞ্চলের বেশি ভাগ মুন্ডাদের মুন্ডারি ভাষা লোপ পেয়েছে।

 মালো আদিবাসী বিষয়ে কিছু কথা


বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩

ভাষা হারানোর শঙ্কায় ওরাওঁ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী। LANGUAGE OF ORAWN TRIBE COMMUNITYওরা ।।

জুন ২১, ২০২৩

ওরাওঁ পদবী যুক্ত ছেলেটি অনর্গল হিন্দীতে কথা বলেই চলেছে, বাড়ি উত্তরবঙ্গের পাহাড় ঘেঁষা সমতলে। আমি খুব একটা হিন্দীতে সাবলীল না, তাই যতটা পারি হিন্দীতে জিগ্যেস করলাম- আর কোন কোন ভাষা বলতে পারো? উত্তরে জানালো সাদরী। প্রশ্ন করলাম কুরুখ জানো না। ছেলেটি মাথা নাড়িয়ে জানালো না। আমি এতদিন যা জানতাম ওরাঁও রা যে ভাষায় কথা বলেন, তার নাম কুরুখ ভাষা।

তার ঠাম্মার সাথে খানিকটা আলাপের সুযোগ হল, সে জানালো এই এলাকায় এখন গোনা কয়েকজন কুরুখ ভাষা বলতে পারে। আর এও জানালো যে তাদের প্রচলিত ভাষা কুরুখ এখন হারানোর মুখে।


 কুরুখ ভাষা


কুরুখ ভাষা দ্রাবিড় ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্গত হলেও, এই ভাষার সাথে কঙ্কনি ভাষার অনেকটা মিল রয়েছে। এর পেছনে ভাষাবিদরা এবং নৃতাত্ত্বিকরা মনে করেন যে‌‌ কঙ্কন এলাকায় ওরাঁওদের আদি বাসস্থান ছিল, তার ফলে ভাষায় এই সংমিশ্রণ ঘটেছে। বর্তমানের নতুন প্রজন্মের ওরাওঁরা দুটি ভাষাকে আপন করে নিয়েছে একটি কুরুক অপরটি শাদরী। বর্তমানে শাদরী বহুল প্রচলিত। এ ভাষাটি দ্বারা শুধু বলা সম্ভব ছিল, কিন্তু লেখা সম্ভব ছিল না; কেননা এর বর্ণমালায় ছিল না । যার ফলে তাদের সাহিত্য এবং লোককথা মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসছিল যুগ যুগ ধরে, কিন্তু সমস্যার সমাধান করা গেছে তোরঙ লিপির সাহায্য। ডাক্তার নারায়ন ওঁরাও, একজন মেডিকেল ডাক্তার, কুরুখ ভাষার জন্য তোলং সিকি লিপি উদ্ভাবন করেছেন।

LANGUAGE OF ORAWN TRIBE COMMUNITY
ওঁরাও সম্প্রদায়

আবার হিন্দী ভাষার সাথে সাদরী ভাষায় কতিপয় মিল থাকার দরুন সাদরী ভাষাকে দেবনাগরী লেখন পদ্ধতিতে লৌখিক রুপ দেওয়া গেছে।


 সমস্যা কোথায়?


বলা বাহুল্য, যে ভাষার লোকসংখ্যার আধিক্য এবং লিপির প্রচলন রয়েছে, সেই ভাষার স্থায়িত্বও অনেক বেশি। মজার বিষয় হলো ২৩% ওঁরাও কুরুখ ভাষায় কথা বললেও ভাষাটিকে বিপন্নপ্রায় ভাষার তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।

কেননা, সাদরী এবং কুরুখ ভাষার সহবস্থানে সাদরি ভাষার গ্রহনযোগ্যতা অপেক্ষাকৃত বেশি। এখানে অনেকের প্রশ্ন হতে পারে, এতে সমস্যা কোথায়? 

সমস্যা রয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ড, ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তেও ওরাঁওদের বাসস্থান রয়েছে। কুরুখ ভাষার প্রাচুর্য থাকার দরুন ওরাঁওদের কুরুখ জাতিও বলা হত। বিশিষ্ট ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ এবং ঔপনিবেশিক প্রশাসক স্যার হারবার্ট হোপ রিসলে তার লিখিত পুস্তকে বর্ননা করেছেন ওরাওঁরা দ্রাবিড়ীয়ান (আবার কোথাও কোথাও প্রোটো অষ্ট্রলয়েড বলা হয়েছে) জ এওনগোষ্ঠীর লোক। তথাপি এদের ভাষাটি ও দ্রাবিড় গোত্রীয় ভাষা। সুতরাং সাদরী এবং কুরুখ এই দুটি ভাষার মধ্যে কোনটি প্রকৃত ভাষা, এতে দোটানায় ভোগে অনেকে। আবার এও দেখা গেছে যে যেসব স্থানে মুন্ডা, সান্থাল, ওরাওঁদের সহবস্থান রয়েছে, সেখানে কুরুখ ভাষার গ্রহনযোগ্যতা অপেক্ষাকৃত অনেক কমেছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩

যীশু খ্রীষ্টের ভারতে আগমন কতটা সত্য? Did Jesus Christ visit India?

জুন ১৫, ২০২৩

 পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিচক্ষণ পন্ডিতেরা প্রভু যীশুর জীবনি এবং তার জীবনে‌ ঘটে যাওয়া জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল বিষয়ে গবেষণা করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। গবেষণা এবং পর্যালোচনা যেখানে রয়েছে সেখানে সমালোচনা তো থাকবেই। যীশুর বিয়ে, যীশুর পলায়ন, যীশুর ক্রুশে বলিদান সব কিছুতেই রয়েছে লাগামহীন তর্ক বিতর্ক। ঠিক একই ভাবে তর্কের সূত্রপাত দেখা দিয়েছে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের (নতুন নিয়ম) সাইলেন্ট ইয়ার্স নিয়ে, সাইলেন্ট ইয়ার্স কি সেটিও হালকা করে জেনে রাখা ভালো - প্রভু যীশুর কৈশোর থেকে যৌবনে পা রাখার সময় প্রযন্ত বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টে তেমন কিছু বলা হয়নি, মাঝখানের এই আঠারো বছর তিনি কোথায় ছিলেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেক বিজ্ঞ সমাজ রয়েছে যারা মনে করেন এই সময়কালে তিনি ভারতে এসেছিলেন এবং প্রাচীন হিন্দু এবং বৌদ্ধ দর্শনের সংস্পর্শে এসে ধর্মিয় জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

থ্য এবং মতবাদ সমূহ

প্রভু যীশু নাকি ভারতের মাটিতে দু বার তার পদধূলি রেখেছেন, ক্রুশবিদ্ধ হবার আগে এবং ক্রুশবিদ্ধ হবার পরে। প্রথম বার মিশরের পথ ধরে ভারতে এসেছিলেন বৈদিক, বৌদ্ধ ও আয়ুর্বেদ শিক্ষার জন্য। তক্ষশীলাতে বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা সহ বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় শিক্ষাও লাভ ক‍রেন। কথিত আছে যে এই সময় তিনি গৌতম বুদ্ধের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ভারতে প্রাপ্ত এই সমস্ত ধর্মীয় জ্ঞান প্রভু যীশু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করার পর প্রচারিত করেন। যার জন্যে প্রভু যীশুর প্রচারিত ধর্মে বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসবাদী নিতী প্রকটভাবে রয়েছে।

দ্বিতীয় বার তবে কখন‌ আসেন? বলেছি তো ক্রুশবিদ্ধের পর, মুসলিমদের মতে যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু ক্রুশবিদ্ধের সময় হয় নি অথবা‌ তিনি পুনরুজ্জীবিত হন নি, বরং তিনি কবর থেকে পালিয়েছেন। কবর থেকে বেরিয়ে কয়েকদিন তিনি লুকিয়ে বেরিয়েছেন এবং সুযোগ বুঝে তার শিষ্যদের সাথেও দেখা করেছেন। শরীরের ক্ষত সেরে উঠলে তিনি বিখ্যাত রেশম পথ হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন, এবং মৃত্যু পর্যন্ত ভারতেই থেকে যান।

আচ্ছা বকবকানি না, আমার কাছে প্রমাণ পেশ করতে হবে, বললেই মেনে নিতে হবে নাকি? প্রমাণ স্বরুপ কি কি তথ্য রয়েছে! 

আছে আছে, তথ্য আছে, একটি নয় কয়েকটি তথ্য, তবে তথ্যগুলো প্রমাণিত সত্য না।

Did Jesus Christ visit India kasmir tibbet
যীশু খ্রীষ্টকে নিয়ে নানা মতবাদ 

নিকোলাস নটোভিচের তথ্য 

নিকোলাস নটোভিচ নামে এক ব্যক্তি ১৮৯৪ সালে প্রভু যীশুর ১২ থেকে ৩০ বছরের যে সাইলেন্ট ইয়ার্স ছিল তার উপর ভিত্তি করে ফরাসি ভাষায় একটি বই লেখেন 'লা ভি ইনকনিউ দ্য জেসাস ক্রাইস্ট'। যদিও পরে এটি "আননোন লাইফ অফ যেসাস ক্রাইষ্ট" নামে বেশি পরিচয় লাভ করে। যেখানে তিনি লিখেছেন প্রভু যীশুর ভারতে পালিয়ে আসার কথা, এবং ভারতে প্রভু যীশুর দেহ ত্যাগের কথা।

নটোভিচ বিতর্কিত বই লিখেছেন, ভালো কথা কিন্তু কোন তথ্যর উপরে ভরসা করে লিখেছেন?

নটোভিচ ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে বৌদ্ধ দর্শনের উপরে গবেষণার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যে ভারতের লাদাখের হেমিস মঠের লাইব্রেরি থেকে সেখানকার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সহায়তায় কিছু প্রাচীন তিব্বতিয় পান্ডুলিপির পাঠ উদ্ধার করেন, যেখানে ইসা (মুসলিমরা প্রভু যীশুকে ইসা নবী হিসাবে চেনেন) নামে এক পশ্চিমদেশীয় জ্ঞানী ধর্মীয় পুরুষের পরিচয় পাওয়া যায়। তিব্বতিয় সেই পান্ডুলিপির অনুবাদ করে তিনি পুনরায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং বিতর্কিত বইটি লেখেন।

স্বামী অভেদানন্দ

একটি বই দ্বারা এটি কি করে প্রমানিত হল যে প্রভু যীশু ভারতে এসেছিলেন? 

না না একটি বই নয়, আরো রয়েছে স্বামী অভেদানন্দ, যিনি শ্রীরামকৃষ্ণ বেদান্ত আশ্রম প্রতিষ্ঠাতা, নিজ চোঁখে সেই পান্ডুলিপি গুলো দেখেছিলেন এবং প্রভু যীশুর সেই রমস্যময় সময়ের বৃত্তান্ত স্বরুপ ‘কাশ্মীর ও তিব্বতে’ নামক একটি বই লেখেন। শুধু তাই নয় তিব্বতীয় সেই পান্ডুলিপির ২২৪ টি লাইন তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন। প্রভু যীশু নাকি ভারতের তিব্বতে ছিলেন তাই নয়, তিনি এখানে মৃত্যুবরণ প্রযন্ত করেছেন। যার কবর এখনো বর্তমান।

এতবড় একটি যুগান্তকারী তথ্য, সেটি নিয়ে মাত্র দু জনেই গবেষণা করেছে? 

ধূর' তেমনটি নয়, এর আগেও অনেক গবেষক গবেষণা করেছেন সেই পান্ডুলিপি নিয়ে। যেমন- হেনরিয়েটা মেররিক ১৯২১ সালে পান্ডুলিপিটি দেখেন এবং "ইন দা ওয়ার্ল্ডেটিক" নামে বই লেখেন। আবার ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে মীর ইজ্জুৎউল্লাহ নামে একজন পারস্যবাসী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নির্দেশে মধ্য এশিয়া ও লাদাখ সফর করেন এবং তিনিও ওই পান্ডুলিপি গুলো দেখে "ট্রাভেলস ইন সেন্ট্রাল এশিয়া" নামের বই লিখেন।

আমার একটু আপত্তি আছে, এতক্ষণ যাদের কথা বললেন তারা সকলেই দেখছি শুধুমাত্র তিব্বতীয় পান্ডুলিপির উপর নির্ভর করে একি কথা বলে চলেছে, একটি পান্ডুলিপিকে তো আর প্রমান ধরা চলে না।

রাজতরঙ্গিনী

কলহন রচিত রাজতরঙ্গিনী, মনে করা হয় এটা ছাড়া নাকি কাশ্মিরের ইতিহাস জানা খুব মুশকিল। সেই গ্রন্থে ইসানা নামের এক দিব্য পুরুষের নাম পাওয়া যায়। এই গ্রন্থে বলা হয়েছে “ইসানা নামক একজন মহৎ সন্ত ডাল হ্রদের তীরে ইসাবারে বসবাস করিতেন। তাঁহার অসংখ্য ভক্ত ছিল।” অনেকেই মনে করেন এই ইসানাই হলেন প্রভু যীশু খ্রীষ্ট। রাজতরঙ্গিনীতে বলা হয়েছে সন্ধিমতী নামক একজন জনতার দ্বারা রাজা নির্বাচিত হন, যিনি স্বয়ং ইসানার শিষ্য পাশাপাশি ইসানার ইচ্ছেতেই তিনি শিংহাষনে বসেন।

যীশু খ্রীষ্ট 

ও বাবা যীশুর উপরে এতগুলো লোকের প্রায় একই অভিমত, এবার একটু অবাক লাগছে।

এতটুকু জেনে যদি অবাক হয়ে গেলে? তাহলে আরো শোনো।

বৈশ্যমহাপুরাণ

"পুরাণ" হিন্দুদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মধ্যে একটি।

হিন্দু ধর্মে মোট আঠারোটি পুরাণ রয়েছে, শিবপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ, ভবিষ্যপুরাণ, ইত্যাদি। যাদের মধ্যে অন্যতম আরেকটি নাম “বৈশ্যমহাপুরাণ”। বৈশ্যমহাপুরাণে ইসা নামের এক জনের সাথে কাশ্মীরের রাজার কথোপকথন বিস্তারিত ভাবে লেখা আছে, তার থেকেও অবাক করার মত বিষয়টি হল বাইবেলে‌ যেমন প্রভু যীশুকে কুমারী মায়ের সন্তান বলা হয়েছে, তেমনি বৈশ্যমহাপুরাণে ইসাকে "কুমারীগর্ভস্বংবরণ" বলা হয়েছে।

আরো পড়ুন - ভারতে খ্রীষ্ট ধর্মের প্রচার কিভাবে শুরু হয় আর কে করেন প্রথম প্রচার?

আরো কিছু তথ্য

সবকিছু শুনলাম, জানলাম প্রভু যীশুর ভারতে আসার বিষয়ে এত কিছু তথ্য থাকা সত্ত্বেও খ্রীষ্টানরা কেন মেনে নেননি এই বিষয়টি?

মানা আর না মানা দুটোরই আলাদা আলাদা মুক্তি থেকে থাকে। কোন যুক্তি সঠিক, কোন যুক্তি বেঠিক সেটা কি বলা সম্ভব। প্রভু যীশুর ভারতে আসা নিয়ে আরো অনেক কথা রয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, যীশু কাশ্মীরে, আবার কেউ বলেন তিনি গৌতম বুদ্ধের প্রয়াণের শহর, কুশিনগরে মারা গিয়েছিলেন। আবার বাইবেল মতে তিনি রোমেই মারা গিয়েছেন। কাশ্মীরের যীশুর মৃত্যুর পর শ্রীনগরের কাছে প্রভু যীশুকে কবরস্থ করা হয়। কাশ্মীরের অধিবাসীরা একজন প্রাচীন হিব্রুভাষী ইহুদি পুণ্যবান পুরুষের কথা বলে আসছে, যার নাম উজ আসাফ। প্রভু যীশু নিজেও হিব্রু ভাষাতেই কথা বলতেন। তাই অনেকের ধারণা তিনিই যীশু খ্রীষ্ট ছিলেন।

খ্রীষ্টানদের এই মতবাদ না মানার কারন

এবার বিচার করো, কোনটিকে সঠিক মনে করবে?

সত্যিই তো? এক জনের বিষয়ে এত বিভিন্ন রকমের মতবাদ।

শুধু তাই নয়, আরো অনেকে আছেন যারা আরো ভিন্ন মত দিয়েছেন। যেমন মধ্যযুগীয় শেষের দিকের আর্থারিয়ান কিংবদন্তি অনুযায়ী যুবক যীশু ব্রিটেনে গিয়েছিলেন।

তাহলে প্রশ্নটা আবার একি জায়গাই গিয়ে ঠেকছে, যীশু ভারতে এসেছিলেন নাকি ব্রিটেনে?

আসলে বিষয়টি হল বিখ্যাত লোকেদের জীবনি নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠতেই থাকে, তার উপরে যীশু খ্রীষ্ট এমন একজন ছিলেন যার প্রচারিত মতবাদ বিশ্বের সবথেকে বেশি মানুষ মেনে চলে, তার বিষয়ে গুঞ্জন ওঠাটাই স্বাভাবিক, তাই কি না।

 আরো পড়ুন - হিন্দু পুরাণে যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে কি বলা হয়েছে।

যেই তথ্যগুলো নিয়ে এতক্ষণ কথা বললাম সেগুলোতে একটি কথা পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, প্রভু যীশু কিশোর অবস্থায় মাত্র বারো বছর বয়সে ভারতে এসেছিলেন, অবাক করার মত বিষয়টি হল ভারত থেকে ইজরায়েল কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, তাছাড়াও সেই সময় আধুনিক সময়ের মত যানবাহন চলাচলের জন্য ছিল না, এক কিশোরের পক্ষে কি এতটা দূরত্ব পায়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব ছিল কি? যেখানে ভাষা ছিল প্রকৃত প্রতিবন্ধকতা।

হুম, যুক্তিটা বেশ জোরদার।

আবার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে যাচাই করি, তবে ঐতিহাসিকরা এখনো প্রমান করতে পারিনি যে সেই সময়ে কাশ্মিরে এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল যেখানে হিন্দু এবং বৌদ্ধ দুটোই চর্চা করা হতো। পরবর্তী সময়ে তক্ষশীলাতে বৌদ্ধ ধর্ম চর্চা শুরু হলেও, দুটো সময়ের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।

তাছাড়াও ইজরায়েলের সমাজ মতে পিতার কাছ থেকে পুত্ররা তার কাজ শিখত। প্রভু যীশুর পিতা ছিলেন কাঠমিস্ত্রি, সুতরাং প্রভু যীশু নিজেও সেই কাজ শিখেছিলেন, যার জন্যে সমাজে তার পরিচয় ছিল কাঠমিস্ত্রি হিসেবেই, যদি প্রভু যীশু কিশোর কালেই ভারতে আসতেন তবে তার দ্বারা কাঠমিস্ত্রির কাজ শেখা সম্ভব ছিল না, এই বিষয়ে বাইবেলের মার্ক লিখিত ৬ অধ্যায়ের ৩ নং পংক্তিতে বলা হয়েছে - এ তো সেই ছুতোর মিস্ত্রি এবং মরিয়মের ছেলে;।

এছাড়াও বহু বিষয় রয়েছে, যা পরস্পর বিরোধী অর্থডক্স তৈরি করে। সর্বোপরি পান্ডুলিপি এবং অন্যান্য গ্রন্থে ইসা নামের প্রাচুর্য পাওয়া যায়, তারপরেও এটা জানা সম্ভব হয়নি যীশু আর ইশা আসলে একই মানুষ।

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩

ভারতে মালো আদিবাসী কারা ? মালোদের বিষয়ে কিছু তথ্য। INDIAN TRIBE COMMUNITY MALO ।

জুন ১৩, ২০২৩


মালো আর মালপাহাড়ির, কখনও বা মালো ওঁরাও আবার খুবই কিঞ্চিৎ পরিমানে এই তিনটির স্থান‌ বেশে সহবস্থান তাদের জাতি গত পরিচয়ে অনেকেরই কাছে ভুলভ্রান্তির সৃষ্টি করে থাকে, কেননা চরিত্র গত, রুচি গত, ব্যবহার গত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংষ্কৃতি গত মেলবন্ধন থাকার ফলে এমনটা দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে জনমানবে।
আদিবাসী মালোরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুবই অল্প সংখ্যায় ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, ফলস্বরূপ মালোদের মধ্যে সংষ্কৃতিক উন্নয়ন থমকে রয়েছে বললেই চলে।
ব্রিটিশ ভারতে চায়ের বাগান তথা রেলপথ স্থাপনে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণ করার সুবাদে আদিবাসী মালোরা পূর্ব তথা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।

জাতিগত পরিচয়

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাঁচি এলাকায় এদের অবস্থান ছিল এবং কালক্রমে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। মালোরা দ্রাবিড়ীয়ান‌ জাতি গোষ্ঠীর হবার সুবাদে , দ্রাবিড়ীয়ান‌ অন্য জাতিবর্গের সাথে মিল পাওয়া যায়। মালো এবং অন্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মিল থাকার দরুন মালোরা প্রায়শই আত্ম পরিচয় হীনতায় ভুগে থাকেন। যার ফলস্বরূপ কিছু কিছু মালোরা তাদের পরিচয় অক্ষত রাখতে "মালো" শব্দটিকেই টাইটেল হিসেবে ব্যবহার করে। তবে এছাড়াও মালোরা  নায়েক, রাজ, শিং, সরকার, মন্ডল, ভূঁঞা পদবীকে টাইটেল হিসেবে ব্যবহার করেন।

INDIAN TRIBE COMMUNITY MALO
মালো মহিলা 


ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের জীবিকা তাদের পরিচয় বহন করে, যেমন কারো পেশা মধু সংগ্রহ, আবার কারো বাঁশের বিভিন্ন দ্রব্যাদী তৈরি, কিন্তু মালোদের বিষয়ে সঠিক ভাবে বলা না গেলেও মনে করা হয় তাদের প্রধান জীবিকা ছিল মাছ ধরা। তবে বর্তমানে এদের বেশিরভাগই চাষবাসকে প্রধান জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে (এর অর্থ এই নয় যে এরা অন্য কাজ করে না।)।

মালোদের ইতিহাস

মালোরা বরাবরই শান্তিপ্রিয় জাতি, তথাপি ঝাড়খন্ড প্রদেশ থেকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়ার সুবাদে তাদের মৎস্য শিকারের জায়গা থেকে সরে পড়লে, মালোরা চাষবাসের কাজে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের লাগামহীন কর এবং অত্যাচারে এরাও কৃষক বিদ্রোহী গুলিতে শামিল হয়। এই সময় বৃটিশ সরকারের হয়ে কর ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতো জমিদাররা, কিন্তু কৃষক বিদ্রোহে কৃষকদের পরাজয় কালক্রমেই মালোদের জমিদারের আশ্রিত প্রজাতে পরিণত করে। এইভাবে মালোরা কখনো জমিদারের ঘোড়ার, কখনও জমিদারের লাঠিয়াল, কখনও গোবাদি পশুর দেখভাল, ইত্যাদি কাজে লাগিয়ে তাদের একপ্রকার স্বকীয়তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সমাজ ব্যবস্থা
রিজলে, বুচানান প্রমূখ তাদের আদিবাসী বিষয়ক পুস্তকে তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা হিসেবে কিছু তথ্য প্রদান করেছেন, যা কালক্রমে বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন হয়েছে, তাদের মতে মালোরা সাদরি ভাষায় কথা বলে, তবে স্থান ভেদে বিভিন্ন স্থানে বাংলা অপভ্রংশ, অথবা হিন্দি অপভ্রংশ (বাংলা এবং হিন্দি মিশ্রিত দ্রাবিড় গোত্রীয় ভাষা) ব্যবহার করে থাকে। রিজলে তার‌ পুস্তকে বর্ননা করেছেন - অন্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মত মালোদেরও সমাজে মাঝিহারাম (মোড়ল) দ্বারাই সমাজ ব্যবস্থা  পরিচালিত হয়। এবং মাঝিহারামকে সহযোগিতা করতে আরো বিশেষ দুটি পদ পারমানিক ও গুরদিক রয়েছে।

আরো পড়ুন - বোকা আদিবাসী চালাক হও সময় হয়েছে পরিবর্তনের।।


পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পিতার পরেই বড় ভাইয়ের কাঁধে দায়িত্ব তুলে দেন মালোরা। মালোদের প্রকৃত ধর্ম বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা না গেলেও, বর্তমানে মালোদের মধ্যে হিন্দু ধর্মের আধিক্য দেখা যায়, তবে হিন্দু ধর্মে মালোদের নিম্নবর্গের মনে করা হয়, যার ফলে মালোদের বেশ কিছু অংশ বিশেষতঃ বাংলাদেশে তাদের মধ্যে খ্রীষ্ট ধর্মের প্রতি আকর্ষণ দেখা গেছে। অন্য ভারতীয়দের মত এরাও ভাত, সব্জী, মাংস হিসেবে মুরগি, ছাগল, শূয়োরের মাংস খেয়ে থাকে, তবে যারা হিন্দু ধর্মের অনুসারী তারা শূকর খান না। উৎসবের আয়োজনে হাড়িয়া প্রধান পানীয় হয়ে ওঠে।

 মালোদের বিষয়ে কিছু কথা

একসময় মালোদের স্বকীয়তা ছিল হয়তো, আমার মতে তা হারিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত, কারন হিসেবে বলা যেতে পারে অশিক্ষা, নিজস্বতার প্রতি ওয়াকিবহাল না থাকা ইত্যাদি। প্রথমেই মনে করিয়ে দিই যে মালোরা এমন একটি জাতি যারা আত্মপরিচয়ের অভাবে ভুগছে, পাশাপাশি শিং, মন্ডল, সরকার ইত্যাদি পদবী গুলোকে ব্যবহার করাই তাদের প্রকৃত পরিচয় নষ্ট হচ্ছে। আবার ইতিহাস বলছে জমিদারের আমলে তারা ঘাসী, বুনি হিসেবে পরিচয় পেয়েছিল, যা তাদের গানেও বর্তমান ‘রাঁচি থেকে আসলো ঘাসী, তারপর হলো আদিবাসী।’ এই সমস্ত বিষয়গুলো থেকে অনুমেয় যে তারা তাদের পরিচয় রক্ষার্থে খুব একটা সচেষ্ট নন, তার ফলস্বরুপ তারা আদিবাসী অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পাশাপাশি অশিক্ষা তাদের অগ্রগতিতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আবার স্বল্প বয়সে বিয়ে এদের মধ্যে খুব দেখা যায় ফলে অপরিপক্ক অবস্থায় পিতা মাতায় পরিনত হওয়া মালোরা আগামী প্রজন্মকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারে না। বর্তমানে বাংলা ভাষাকে প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহার করলেও যেখানে অন্য আদিবাসীদের সহবস্থান দেখা যায় সেখানে মালোরা সেই ভাষাকেই আপন ভাষা হিসেবে করায়ত্ত করে ফেলে, উদাহরণ স্বরূপ পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় মালোদের সংখ্যা তুলনামূলক অন্য সকল রাজ্য থেকে বেশি, তবে ওঁরাওদের সাথে সহবস্থান মালোদের ভাষাকে সাদড়ী ভাষায় পরিনত করেছে। যা একপ্রকার ভাষা গ্রাস বলা যেতে পারে।